কিছু কথা

অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিলো নিজে ব্লগ লিখবো, যা মনে আসে তা-ই লিখবো। কিন্তু গেঁয়ো যোগী যেমন ভিখ পায় না, তেমনি নিজের কাজও পাত্তা পায় না! আজকে সবকিছু গুছিয়ে শেষ করবো, কালকে শেষ করবো, এভাবে পিছাতেই থাকে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত মনে হয় শুরু করতে পারলাম।

আমার পরিচয় – আমি বারী, পুরো নাম মোঃ ফজলে-ইয়া-বারী হোসেন। জন্ম ২৮শে নভেম্বর ১৯৮৩ চাঁপাই নবাবগঞ্জে নানাবাড়িতে। বাবার কর্মসূত্রে বসবাস রাজশাহীতে, এই শহরেই কেটেছে আমার শৈশব ও কৈশোরের পুরোটা সময়। ১৯৯৯ সালে রাজশাহী গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে এস.এস.সি আর ২০০১ সালে রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করে ২০০২ সালে ঢাকা শহরে আগমন বুয়েট-এ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। তারপর থেকে ঢাকাতেই বসবাস। ব্যাচেলর জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০০৭ সালের অক্টোবরে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা নিশাকে বিয়ে করে বিবাহিত জীবনে পদার্পণ করি। ২০০৮ এর ডিসম্বরে জন্ম নেয় আমার পুত্র আবরার। আমার এই ছোট্ট পরিবার নিয়ে এখন বাস করছি ঢাকার মিরপুরে।

প্রায় চার বছর ধরে কাজ করছি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে, কাজের ক্ষেত্র ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। কাজ করা শুরু করেছিলাম ২০০৬ এর অক্টোবরে। অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে এখনও চালিয়ে যাচ্ছি ফ্রিল্যান্স জীবন। কাজের সূত্রে বিভিন্ন দেশের নানারকম মানুষের সাথে পরিচয়ের সুযোগ হয়েছে, জানতে পেরেছি শিখতে পেরেছি অনেক কিছু, অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমেছে অসংখ্য অভিজ্ঞতা।

প্রথাগত চাকরি না করার কারণে আর স্বভাবগত অলসতার কারণে আমার সময়ের প্রায় পুরোটাই কাটে বাসাতে চার দেয়ালের ভিতর। আর এই সময়ের সিংহভাগ কাটে কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে – কাজ করে, বিভিন্ন ব্লগ/ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে আর মুভি দেখে, গান শুনে। মুভি দেখা আমার একটা বাতিক, মাসে প্রায় ১০-১৫টা মুভি দেখি! আরও কিছু বাতিক আছে – বই পড়া, ফুটবল ম্যাচ দেখা। বই পড়ার ক্ষেত্রে আমি সর্বভুক তেলাপোকা শ্রেণীর পাঠক, হাতের কাছে যা পাই তা-ই পড়ি। শৈশবে সেবা প্রকাশনীর ভালোবাসার ফাঁদে পড়েছিলাম, এখনও সেই ফাঁদ কেটে বের হতে পারিনি! এখনও কাজীদা আমাকে তাঁর সৃষ্টি চিরনবীন যুবক মাসুদ রানার কর্মকান্ড দিয়ে অবাক করে চলেছেন। শনি-রবিবার সন্ধ্যাবেলা ফুটবল ম্যাচগুলো দেখার জন্য টিভির দখল নিয়ে নিশার সাথে প্রায়ই একটা হালকা যুদ্ধ হয়। তবে মঙ্গল-বুধবারে চ্যাম্পিয়নস লীগের খেলাগুলো গভীর রাতে থাকার কারণে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আগে প্রচুর ক্রিকেট দেখতাম আর খেলতামও। এখন আর খেলাও হয় না আর তেমন দেখাও হয়না। তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো দেখার চেষ্টা করি, মাঝেমাঝে বিদ্যুৎ আসলে যতটুকু দেখা যায় তার প্রায় পুরোটাই দেখি!

আমার দৈনন্দিন জীবনের ভালো লাগা খারাপ লাগা, আমার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, কোনো মুভি দেখে বা কোনো বই পড়ে কেমন লাগলো, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার মতামত, নতুন কি শিখলাম বা জানলাম – এইসব নিয়ে লিখবো বলেই এই ব্লগের সূত্রপাত।

২টি মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন